দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই তিনি জন্মভূমির মাটি ছুঁয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং খালি পায়ে একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। পরবর্তীতে বুলেটপ্রুফ গাড়ি পরিহার করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খচিত লাল-সবুজের একটি বাসে চড়ে রাজধানীর পূর্বাচলে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান তিনি। বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়া লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান দেশবাসীকে যেকোনো উসকানির মুখে ধৈর্য ধারণ ও শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
ঐতিহাসিক এই ভাষণে তারেক রহমান বলেন, “আমরা সবাই মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আমরা দেশে অশান্তি নয়, বরং স্থায়ী শান্তি চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তাঁর বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নে প্রতিটি নাগরিকের সহযোগিতা প্রয়োজন। এর আগে বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুও। লন্ডন থেকে যাত্রা শুরুর পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি শেষে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর অসুস্থ মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রওনা হন। দীর্ঘ দেড় যুগ পর প্রিয় নেতার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে পুরো ঢাকা শহর মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তায় জনসমুদ্রের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে তাঁর তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। এই ফেরার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে এক অভাবনীয় আবেগ ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।
